রাজ্যে স্থগিত হয়ে গেল ডাক্তারি ভর্তি প্রক্রিয়া, সংকটের মুখে হাজার-হাজার পড়ুয়া! কি হল আবার?

ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার জেরে রাজ্যে এমবিবিএস ও বিডিএস (ডেন্টাল) কোর্সের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর ফলে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্রের খবর, হাইকোর্টের সাম্প্রতিক ওবিসি সংক্রান্ত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট জটিলতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে এমবিবিএস ও বিডিএস-এর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং রবিবার রাতে পছন্দের কলেজ বেছে নেওয়ার (চয়েজ ফিলিং) কাজও শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বুধবার এই প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। রাজ্যের প্রায় ৫ হাজার আসনের জন্য ১১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে কাউন্সেলিং স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এই শিক্ষার্থীরা গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। কারণ, ডাক্তারি কোর্সের ভর্তি ও পরীক্ষা প্রক্রিয়া ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী সারা দেশে প্রায় একই সময়ে চলে। এই বিলম্বের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রাজ্যের বাইরে অন্য রাজ্যে ভর্তি হতে চলে যেতে পারেন।
ওবিসি জটিলতার কারণে শুধু ডাক্তারি নয়, রাজ্য জয়েন্টের ফলপ্রকাশও এখনও অন্ধকারে। রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরনের একের পর এক জটিলতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা পাশ করে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, তারা এখন হতাশ হয়ে পড়বেন। শিক্ষাক্ষেত্রে একটি অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হবে। সেশন দেরিতে শুরু হলে পরবর্তী জীবনে ইন্টার্নশিপ ও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হবে।”
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভর্তি বিলম্বিত হওয়ার কারণে অনেক আসন ফাঁকা থাকতে পারে, যা পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ করিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মতো দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।