৫১ সতীপীঠের অন্যতম! এই মন্দিরের ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে, মনের সব ইচ্ছা পূরণ করেন ‘মা’

‘নবাবের শহর’ হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হলো ৫১ সতীপীঠের অন্যতম কিরীটেশ্বরী মন্দির। আগামী শুক্রবার কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে এই প্রাচীন মন্দিরটি নতুন করে সেজে উঠছে। এই বিশেষ তিথিতে রাতভর চলবে হোম-যজ্ঞ এবং বিশেষ পুজো।

কিরীটেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস ও মাহাত্ম্য
এই মন্দিরের ইতিহাস ঘিরে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল ‘কিরীটকণা’। সেবাইতদের মতে, ‘কিরীট’ শব্দটি এসেছে ‘করোটি’ বা মাথার খুলি থেকে। এখানে সতীর করোটির অংশ পড়েছিল বলেই এই স্থানের নাম হয় ‘কিরীটেশ্বরী’। এই মন্দিরে দেবী দক্ষিণাকালী রূপে পূজিত হন এবং প্রতিদিন নিশিরাত্রিতে মায়ের পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

১১০৪ বঙ্গাব্দে নাটোরের রানি ভবানী এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে মহারাজা রাও যোগেন্দ্রনারায়ণ রায় ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে মন্দিরটির সংস্কার করেন। যেহেতু যোগেন্দ্রনারায়ণের সময়ে ‘পুনঃসংস্কারের’ উল্লেখ রয়েছে, তাই ধারণা করা হয় যে তার আগেও এই মন্দিরের সংস্কার করা হয়েছিল।

পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত কিরীটেশ্বরী
কিরীটেশ্বরী মন্দিরটি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই স্থানটিকে পর্যটন গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে, যা স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকেই মন্দিরে বিশেষ পুজো শুরু হবে এবং রাতে হোম-যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। এই মহাজাগ্ৰত মন্দিরে পুজো দিতে বহু ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।