সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজভবনের বাইরে থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একদিকে ইচ্ছে করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের তিন মাস পরও সরকারি কলেজে ভর্তি শুরু হয়নি এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যদি রাজ্য সরকার জয়েন্টের ফল প্রকাশ এবং প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু না করে, তাহলে আগামী সপ্তাহে তারা বিকাশ ভবনের সামনে ধর্না কর্মসূচিতে বসবেন। এই ধর্নায় বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদরাও অংশ নেবেন বলে তিনি জানান। যদি এই কর্মসূচির জন্য পুলিশি অনুমতি না মেলে, তাহলে হাইকোর্টে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু।

জয়েন্টের ফল প্রকাশ না হওয়ার পেছনে দুটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শুভেন্দু। তার মতে, একটি কারণ হলো ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য মমতা সরকার জাতীয় ওবিসি তালিকার বাইরে থাকা ৭৬টি মুসলিম সম্প্রদায়কে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। এতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে শুভেন্দু আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছরে চিটফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবসা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল হবে, তত তার ঘনিষ্ঠদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ফুলেফেঁপে উঠবে।” তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল সরকার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে অবহিত করেছেন বলেও শুভেন্দু জানান।