পূর্ব বর্ধমানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইদিনে তিনজনের মৃত্যু, শোক ও ক্ষোভ

পূর্ব বর্ধমান জেলায় একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে জেলায় তিনটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন নববিবাহিত যুবকসহ মোট তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনাগুলোয় জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে কালনা থানার ধাত্রীগ্রাম এলাকায় এক নববিবাহিত যুবক মিরাজ শেখের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাইক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি লরির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান। জানা গেছে, মাত্র একদিন আগেই তার বিয়ে হয়েছিল। তার অকালমৃত্যুতে নববধূর পরিবারসহ পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মিরাজের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
একই দিনে সকালে কেতুগ্রামের চরখি নতুন টোল প্লাজার কাছে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এসবিএসটিসি-এর একটি বাসের খোলা দরজা গার্ডরেলে ধাক্কা দিলে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যাত্রী, সোমনাথ চোঙদার এবং মোহাম্মদ টিপু সুলতান, ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল এবং বাসচালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি না থেমে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে যাত্রীদের সুরক্ষার অভাব এবং বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। শুক্রবারও বর্ধমানে একটি বাস দুর্ঘটনায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই পরপর দুর্ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, জেলায় সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা দুর্বল। মৃতদের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত নজরদারি এবং যাত্রী সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।