‘একজনের নাম বাদ দিলে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন হবে’, নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, “একজনের নাম বাদ দিলে এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন হবে।” একইসঙ্গে, তার দেওয়া তথ্য কীভাবে বিজেপির হাতে চলে যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি পেনড্রাইভে করে নির্বাচন কমিশনকে ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত তথ্য এবং ৪১ জন ভোটারের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তার এই অভিযোগের উত্তর দিচ্ছেন বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর, যিনি বাংলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। অভিষেকের অভিযোগ, “সিবিআই, ইডি, এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করলে জবাব দিচ্ছে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা।”
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বএলএ (BLA) নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, “আমরা আগেই বিএলএ নিয়ে মামলা করেছি। এখন নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমার দেওয়া তথ্য বিজেপির কাছে চলে গেছে। ফলে বিএলএ নিয়ে দেওয়া তথ্য যে বিজেপির কাছে যাবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচন কমিশন বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এই অধিবেশনেই আনা সম্ভব নয়, তবে আগামী অধিবেশনে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “আজ আমাদের প্রতিনিধিরা জলশক্তি মন্ত্রণালয়ে যাবে। জলের টাকাও বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। রাজ্যকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আবাস, সড়ক, সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা কবে দেবেন?” তিনি আরও বলেন, “গাছ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়। বিজেপি আগে তাদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুক। আমরা এই বৈষম্য মানব না।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ প্রসঙ্গে হলফনামা জমা দেওয়ার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “কমিশন বলছে সাত দিনের মধ্যে হলফনামা না দিলে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তাহলে আমিও বলি, আমার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর ধরে তদন্ত করছে, কিন্তু কিছু জমা দিতে পারছে না। তাহলে তর্কের খাতিরে এবার আমিও বলব মামলা খারিজ করতে।”