অটো করে পাঁচতারা হোটেলে রাজকীয় প্রবেশ! যুবকের আচরণে ‘থ’ সকলে, অতঃপর যা ঘটল….

একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একদল যুবক একটি অটো-রিকশায় চড়ে ব্যাঙ্গালুরুর বিলাসবহুল জে ডব্লিউ ম্যারিওট প্রেসিটিস গলফশায়ার রিসর্ট অ্যান্ড স্পা-তে প্রবেশ করছেন। সাধারণত যেখানে শুধুমাত্র বিলাসবহুল গাড়ি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, সেখানে এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হওয়ায় এটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে এবং এতে দেখা যাচ্ছে, একটি অটো-রিকশা হোটেলের প্রধান গেটের সামনে এসে থামে। নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে তাদের প্রবেশে আপত্তি জানান। এমন পরিস্থিতিতে যুবকেরা কিছুটা কৌতুক করে বলেন, “খোল দো ভাইয়া (গেট খুলে দিন ভাই)”। এরপর তাদের একজন হোটেলের রুমের চাবি দেখিয়ে বলেন, “রুম হ্যায় অন্দর (ভিতরে আমাদের রুম রয়েছে)।” নিরাপত্তারক্ষী বিষয়টি যাচাই করার পর গেট খুলে দেন এবং অটোটি হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে।

হোটেলের মূল দরজায় ঢোকার সময় যুবকদের একজন হাসতে হাসতে বলেন, “অডি, মার্সিডিজ লাগি হ্যায় (সামনে অডি আর মার্সিডিজ গাড়ি দাঁড়ানো আছে)।” ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে এই ক্যাপশন সহ, “দ্য মোস্ট কনফিডেন্ট ৫-স্টার অ্যারাইভাল এভার” (এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ৫-তারা আগমন)।

ভিডিওটি ইতিমধ্যেই তিন মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য এসেছে। অনেকেই এটিকে একটি মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন এবং যুবকদের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “সব চার-চাকার গাড়ির মর্যাদা শেষ, যখন তিন-চাকা মাঠে নামে।” আরেকজন বলেন, “প্রিমিয়াম এন্ট্রি!”

তবে, ভিডিওটি কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। কিছু নেটিজেন বলেছেন যে এটি শুধুমাত্র গাড়ি বা আর্থিক অবস্থার বিষয় নয়, বরং ভদ্র আচরণেরও ব্যাপার। একজন মন্তব্য করেন, “এটা গাড়ির ব্যাপার না, ব্যবহারের ব্যাপার। ভদ্রভাবে আচরণ করলে আপনাকে যেকোনো গাড়িতে ঢুকতে দেবে।”

এই ঘটনাটি ভারতের সামাজিক শ্রেণিবৈষম্যের ওপর নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। এটি মনে করিয়ে দেয় সেই ঘটনা, যখন থাইরোকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ এ. ভেলুমনি একটি গল্প শেয়ার করেছিলেন। সেখানে একজন অটোচালকের ছেলের আইআইটি হায়দরাবাদে পড়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু একই সময়ে সেই অটোকে মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাগুলো একাধারে মানুষের পরিশ্রম ও স্বপ্নপূরণের গল্প এবং একইসাথে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির জটিলতাকে তুলে ধরে।