‘চাপের মুখে জাতিভিত্তিক জনগণনার ঘোষণা’-মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব রাহুল

বিহারে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র সূচনা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মোদি সরকার চাপের মুখে জাতিভিত্তিক জনগণনার কথা ঘোষণা করেছে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, সরকার প্রকৃত জাতিভিত্তিক জনগণনা করবে না এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার ৫০ শতাংশের সীমাও কখনও তুলবে না।

রাহুলের অভিযোগ:
রবিবার সাসারামে এক মঞ্চ থেকে রাহুল বলেন, “আমরা সংসদেও বলেছি, আমরা জাতিভিত্তিক জনগণনা চাই। সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশের ক্যাপ তুলে দেওয়া উচিত। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির সামনেই এটা বলেছি। কিন্তু বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদি চাপের মুখে জাতিভিত্তিক জনগণনার কথা বলেছে। আমি জানি, ওরা আসল জাতিভিত্তিক জনগণনা করবে না। সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশের ক্যাপের দেওয়াল কখনও নামবে না।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের সর্বত্র জাতিভিত্তিক জনগণনা হবে এবং সংরক্ষণের সীমা তুলে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য:
উল্লেখ্য, গত ৩০শে এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছিলেন যে মন্ত্রিসভা জাতিভিত্তিক জনগণনায় সম্মতি দিয়েছে। তিনি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেছিলেন যে কংগ্রেস বরাবরই এই জনগণনার বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার দেশে জাতিভিত্তিক জনগণনা হওয়ার কথা। তবে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা এর সময় এবং সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘ভোটার অধিকার যাত্রা’:
রাহুল গান্ধী বিহারে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে জনসচেতনতামূলক ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র সূচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)’ প্রক্রিয়ায় বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ যাচ্ছে।

এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, বিহার বিধানসভার বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব, এবং অন্যান্য বিরোধী জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই যাত্রা ১৬ দিন ধরে বিহারের ২০টিরও বেশি জেলায় ঘুরে ১,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করবে। তেজস্বী যাদব একটি জিপ চালিয়ে এই যাত্রার সূচনা করেন, যেখানে রাহুল গান্ধীও আরোহী ছিলেন।