বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার, ১০ মাস কারাভোগের পর এখনও আতঙ্কে জামালপুরের পরিবার

কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের অধিকারী দম্পতি। কিন্তু হঠাৎই বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ দশ মাস কারাবন্দি থাকতে হয় তাদের। প্রায় তিন বছর আগের সেই ঘটনার আতঙ্ক এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে পলাশ ও তার পরিবারকে। জামিন পেলেও তাদের নিয়মিত আদালতের শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুতে দুঃস্বপ্নের শুরু:
২০২২ সালে দেড় বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে পলাশ অধিকারী তার মা, বাবা এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে যান। দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে তাদের দিন চলছিল। কিন্তু এক রাতে পুলিশ হঠাৎ তাদের বাড়িতে এসে বাংলাদেশি সন্দেহে সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। যদিও পলাশের বাবা-মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, পলাশ, তার স্ত্রী শুক্লা এবং তাদের দেড় বছরের শিশু পুত্রকে গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

প্রমাণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি:
জামালপুরের বাড়িতে এসে বেঙ্গালুরুর পুলিশ তাদের নাগরিকত্বের নথি যাচাই করে। পলাশের পরিবার জমির দলিল, পারচা, এবং জামালপুর থানা, বিডিও, ও মহকুমা শাসকের কাছ থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শংসাপত্র আদালতে জমা দেয়। পুলিশ এসব নথিপত্র এবং তাদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয়। দীর্ঘ দশ মাস পর পলাশ, শুক্লা এবং তাদের শিশুসন্তান জামিনে মুক্তি পান।

আতঙ্ক আজও শেষ হয়নি:
তিন বছর পরেও পলাশদের নাম থেকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’র সন্দেহ ঘোচেনি। নিয়মিতভাবে তাদের বেঙ্গালুরুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। তাই জামিন পেলেও তারা স্বস্তিতে নেই। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কিছুদিন বেঙ্গালুরুতে কাজ করার চেষ্টা করলেও ঠিকমতো কাজ না পেয়ে পলাশ জামালপুরে ফিরে আসেন। তবে তার স্ত্রী এখনও বেঙ্গালুরুতে কাজ করছেন।

পলাশের মা সবিতা অধিকারী বলেন, “তিন বছর আগের সেই ভয় এখনো আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমরা জানি না কবে এই সংকট থেকে মুক্তি পাব।” গ্রামের জৌগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য কৃষ্ণা সরকার জানান, বাংলায় কথা বলার জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরিবারটি এখন এনআরসি আতঙ্কে আছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিবারটির পাশে আছি।”