ভোট চুরির অভিযোগ ‘৭ দিনের মধ্যে প্রমাণ দিন নয়তো ক্ষমা চান’- বলল নির্বাচন কমিশন

রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার কমিশন জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতাকে সাত দিনের মধ্যে শপথপত্র-সহ তার অভিযোগের প্রমাণ পেশ করতে হবে অথবা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে ধরে নেওয়া হবে।
কমিশনের কড়া বার্তা:
রবিবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “শপথপত্র দিতে হবে অথবা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এর বাইরে কোনো তৃতীয় পথ নেই। সাত দিনের মধ্যে শপথপত্র না এলে তার মানে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
কমিশনের দাবি, রাহুল গান্ধীর এই ধরনের মন্তব্য সংবিধানের প্রতি অপমান এবং ‘ভোট চুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ছোট করছেন। জ্ঞানেশ কুমার অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটারদের নিশানা করে। তিনি বলেন, “ভারতের ভোটারদের টার্গেট করে যখন রাজনীতি করা হয়, তখন কমিশন স্পষ্ট জানাতে চায়, দরিদ্র, ধনী, প্রবীণ, মহিলা, যুবক, সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভোটারের পাশে কমিশন সব সময় ছিল এবং থাকবে। মিথ্যা অভিযোগে কমিশন বা ভোটাররা ভয় পাবে না।”
রাহুলের পাল্টা অভিযোগ:
কয়েকদিন আগে বিহারের সাসারামে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র সূচনা করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, কমিশন তাকে বেছে বেছে নিশানা করছে। তিনি বলেন, “আমি যখন ভোট চুরির অভিযোগ তুললাম, তখন আমাকে শপথপত্র দিতে বলল কমিশন। কিন্তু বিজেপি নেতারা যখন একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন, তখন তাদের কাছে কোনো শপথপত্র চাওয়া হয়নি।”
রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, কমিশন তাকে কেন প্রমাণ দিতে বলছে, যখন এই তথ্য তাদের কাছেই আছে? কংগ্রেসের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ বিহারের ২০টিরও বেশি জেলায় ঘুরে ভোটার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং ভোটার তালিকার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য শুরু হয়েছে। এই যাত্রার উদ্বোধনে রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব উপস্থিত ছিলেন।