‘ট্রাম্পের নেই দরকার!’-‘মেগা অফার’ দিলো ব্রিটেন-ফ্রান্স, এবার ঘরেই জেট ইঞ্জিন বানাবে নয়াদিল্লি?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ওপর ভর করে প্রতিরক্ষা খাতে ভারত ক্রমশ স্বনির্ভর হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অস্ত্র। এবার এই আত্মনির্ভরতার তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে জেট ইঞ্জিন। ভারত এই ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং এই উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি দেখে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো যৌথ উদ্যোগে অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা ইতিমধ্যেই ডিআরডিওকে ফাইটার জেটের ইঞ্জিন তৈরির জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এবার জাপানও নিজস্ব আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা নয়াদিল্লির নজর কেড়েছে। যদিও টোকিওর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে জানা গেছে যে তারা ডিআরডিও বা কোনো ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার সাথে মিলে জেট ইঞ্জিন তৈরিতে কাজ করতে আগ্রহী।

জাপানের সামরিক উত্থান:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের সামরিক অগ্রগতি সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৫১ সালে আমেরিকার সাথে নিরাপত্তা চুক্তির পর তারা প্রতিরক্ষা খাতে খরচ কমিয়ে দেয়। তবে ২০১০ সালের পর থেকে চীনের আগ্রাসী মনোভাব জাপানকে আবার নিজেদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা কিছুটা নির্লিপ্ত থাকায় জাপান আবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে জোর দিচ্ছে।

ভারতের লাভ:
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের এই যৌথ উদ্যোগ দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। একইসাথে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। যদিও জাপান দীর্ঘদিন সামরিক খাতে সক্রিয় ছিল না, বর্তমানে তারা এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতেরও দ্রুত জেট ইঞ্জিন প্রয়োজন। চলতি বছরে মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলি অবসরে গেলে ভারতীয় বায়ুসেনায় যুদ্ধবিমানের ঘাটতি দেখা দেবে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তেজস বিমান আনার পরিকল্পনা থাকলেও, মার্কিন সংস্থা সঠিক সময়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। অতীতে জাপান মহাকাশ গবেষণা এবং বুলেট ট্রেন প্রকল্পে ভারতকে সহায়তা করেছে, তাই এখন জেট ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।