গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির মন্দিরের সামনে ভাঙন, নিম্নমানের মেরামতের অভিযোগ

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির মন্দিরের সামনের সমুদ্রপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচ দফতর জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু করলেও, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কপিলমুনির মন্দির রক্ষা করা প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক দুর্যোগগুলোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে সমুদ্রপাড়ের কংক্রিটের রাস্তা এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে সাগরে তলিয়ে গেছে। ফলে মন্দির থেকে সাগরের দূরত্ব ক্রমশ কমছে, যা মন্দিরের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবার দুর্যোগের পর জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও, তা টেকসই হচ্ছে না।
বর্তমানে শাল-বল্লা, সাদা বালি এবং ইঁটের টুকরো দিয়ে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিরোধীরাও এই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কাজের সময় ঠিকাদারের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসাও হয়, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ থাকে। পরে আবার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, এই অস্থায়ী মেরামতের বদলে একটি স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হোক। কিন্তু শাসক দলের নেতারা এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপি নেতা অরুণাভ দাস রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেন, “এই সরকার গঙ্গাসাগর ও কপিলমুনিকে রক্ষার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে পারেনি। শুধু কাটমানি খেতে জানে।”
অন্যদিকে, সাগরের তৃণমূল বিধায়ক এবং সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা জানান, “সেচ দফতর কাজ করছে। এর আগে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছিল এবং এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া নিজে এই ভাঙন রোধের নির্দেশ দিয়েছেন।” উভয় পক্ষের এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।