ফুটবল ম্যাচে রেফারিকে লাথি মারার ঘটনায় মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের ভাইপো গ্রেফতার

মেদিনীপুরে ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন রেফারিকে লাথি মারার অভিযোগে স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খাঁ-এর ভাইপো রাজা খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে মেদিনীপুর শহরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর শহরের ওল্ড প্রদীপ সংঘের মাঠে একটি ছোটদের ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন খড়গপুর সাব-ডিভিশন রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য লক্ষ্মণ মাণ্ডি, যিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। অভিযোগ, খেলা চলাকালীন রাজা খাঁ হঠাৎ মাঠে ঢুকে পড়েন এবং একটি গোল বাতিল করা নিয়ে রেফারির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজা রেফারিকে হুমকি দিচ্ছেন এবং তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে তিনি রেফারিকে সজোরে লাথি মারেন। মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুভেন্দু অধিকারী তার এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি পুলিশ সুপারকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যদি বিচার না পান, তবে লক্ষ্মণ মাণ্ডিকে সব রকম সহায়তা করবেন।
এদিকে, শনিবার সকালে রাজা খাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করেছে। এই ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত রাজা খাঁ বলেছেন, “খেলায় একটি ভুল হয়ে গিয়েছিল। তবে বিজেপি যে রাজনৈতিকভাবে কতটা পিছিয়ে তা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হওয়া থেকে বোঝা যায়।”
মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খাঁ সাংবাদিকদের বলেন, “মাঠে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য রাজার অবশ্যই ক্ষমা চাওয়া উচিত। যদি এটি নিয়ে রাজনীতি হয়, তবে তা প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কিছু নয়।” অন্যদিকে, মেদিনীপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা ঘটনাটিকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, “মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ধরনের ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।”