“এক যুবকের দু’টি আধার কার্ড”-সোনু নামে বুকিং নেন নাসিম, রহস্য বাড়ছে গাড়ির চালককে ঘিরে

আরোহীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও গাড়ি না থামিয়ে, বৃহস্পতিবার একটি পরিবারকে কার্যত ‘বন্দি’ করে দিল্লির রাজপথে গাড়ি ছোটানোর অভিযোগে এক ক্যাব চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির নয়ডা ফেজ়-৩ এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চালকের দুটি আধার কার্ড রয়েছে। একটিতে তার নাম নাসিম এবং অন্যটিতে সোনু লেখা। পুলিশ জানিয়েছে, তার আসল নাম নাসিম, এবং সোনু নাম ব্যবহার করে তিনি অনলাইনে বুকিং নিতেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে কেন তার কাছে দুটি আধার কার্ড ছিল এবং কেন তিনি পরিচয় লুকিয়ে গাড়ি চালাতেন।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ। সঞ্জয় মোহন নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও চার বছরের মেয়ের সঙ্গে দিল্লির কনট প্লেস থেকে গ্রেটার নয়ডা যাওয়ার জন্য একটি ক্যাব বুক করেন। তাদের অভিযোগ, নয়ডার পার্থলা ব্রিজের কাছে আসতেই পুলিশ গাড়িটি থামানোর জন্য ইশারা করে। কিন্তু পুলিশ দেখে চালক নাসিম ওরফে সোনু গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দ্রুতবেগে পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় মোহন এবং তার স্ত্রী ভয় পেয়ে চিৎকার করে চালককে গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু তাদের চিৎকার শুনেও সোনু গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। এদিকে পুলিশের ভ্যানও সাইরেন বাজিয়ে গাড়িটিকে ধাওয়া করতে থাকে। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর টিপি নগরের কাছে সোনু কিছুক্ষণের জন্য গাড়িটি থামান। এই সুযোগে মোহন ও তার পরিবার দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং সোনু গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান।

মোহন পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেন্ট্রাল নয়ডার ডিসিপি শক্তি মোহন অবস্তি জানান, ১৪ আগস্টের এই ‘র‍্যাশ ড্রাইভিং’-এর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগেই চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সাহারা কাট এলাকা থেকে নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে যে অভিযুক্ত সোনু হরিয়ানার পলওয়াল জেলার বাসিন্দা এবং তিনি সেক্টর-৭৩-এর সরফাবাদে থাকেন।