“ধোনির কারণেই দল থেকে বাদ…”-বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইরফান পাঠান

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইরফান পাঠান সম্প্রতি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ২০০৯ সালে তৎকালীন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাঠান জানান, শ্রীলঙ্কা সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করার পরেও ২০০৯ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে তাকে একটিও ম্যাচে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
একটি সাক্ষাৎকারে পাঠান জানান যে তিনি তৎকালীন কোচ গ্যারি কার্স্টেনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হলো। জবাবে কার্স্টেন দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। প্রথমত, তিনি বলেছিলেন যে এই সিদ্ধান্ত তার হাতে ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি জানান যে দলটি একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার খুঁজছিল। এই ভূমিকাটি তার ভাই ইউসুফ পাঠানকে দেওয়া হয়েছিল, যখন ইরফান নিজেকে একজন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে মনে করতেন।
পাঠান বলেন, “আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটি কার হাতে, কিন্তু তিনি আমাকে কিছু বলেননি। আমি আগেই জানতাম যে প্লেয়িং ইলেভেন অধিনায়কের পছন্দের ওপর নির্ভর করে।” তিনি আরও বলেন, “ধোনি তখন অধিনায়ক ছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল, তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না, কারণ প্রতিটি অধিনায়কেরই নিজস্ব দল গঠনের অধিকার আছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি অন্য কোনো খেলোয়াড় একই পরিস্থিতিতে থাকত, তাহলে তাকে এক বছরের জন্যও বাদ দেওয়া হত না।” পাঠান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফর্ম্যান্সের কথা স্মরণ করেন, যেখানে তিনি ২৭ বা ২৮ বলে ৬০ রান করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরেও তাকে নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম তিনটি ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়। চতুর্থ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয় এবং তিনি শেষ ম্যাচেও সুযোগ পাননি।
ইরফান পাঠান ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এবং ২০২০ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ২৯টি টেস্ট, ১২৪টি ওয়ানডে এবং ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তিনি যথাক্রমে ১,১০৫ ও ১৫৪৪ রান এবং ১০০ ও ১৭৩ উইকেট নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে তার সংগ্রহ ১৭২ রান এবং ২৮ উইকেট।