৩.৬ কোটির বাড়ির উত্তরাধিকার নিয়ে তুমুল বিবাদ ভাই-বোনের! আদালতে যা জানা গেল, কান্নায় ভাসলেন দু’জনেই

চীনের তিয়ানজিনে একটি পারিবারিক বিবাদ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৩.৬ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ির উত্তরাধিকার নিয়ে দুই ভাই-বোনের মধ্যে আদালতে মামলা চলছিল। কিন্তু সেই মামলার শুনানিতে এমন একটি তথ্য সামনে আসে, যা তাদের দুজনকেই হতবাক করে দেয়। তারা জানতে পারেন যে, তারা কেউই তাদের বাবা-মায়ের আসল সন্তান নন, বরং দু’জনই দত্তক নেওয়া।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের মার্চ মাসে, যখন বাবা সান মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি একটি বাড়ি তার ছেলের নামে হস্তান্তর করে যান। তবে একটি নোটে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার দত্তক নেওয়া কন্যাকে যেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বাবার এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে কন্যা আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, যেহেতু সম্পত্তিতে কেবল তার বাবার স্বাক্ষর ছিল, তাই তার মায়ের অংশটুকুও উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
মামলা চলাকালীন, কন্যা একটি নথি পেশ করেন যেখানে দেখা যায় যে তার ভাই দত্তক নেওয়া সন্তান। এটি জানার পর ভাইও পাল্টা একটি নথি জমা দেন, যেখানে প্রমাণিত হয় যে তার বোনও দত্তক নেওয়া। এই তথ্য সামনে আসার পর উভয়ই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন।
আদালতে ভাই যুক্তি দেন যে, তার বোন ১৯৯০-এর দশকেই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তার পর থেকে তিনিই বাবা-মায়ের দেখাশোনা করেছেন। তবে নানকাই জেলা আদালত চীনের দেওয়ানি আইন অনুসারে রায় দেয় যে, দত্তক সন্তানদেরও উত্তরাধিকারের সমান অধিকার রয়েছে। তবে যেহেতু বাড়িটি ২০০৭ সালেই ছেলের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাই সেটিকে আর উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
অবশেষে, আদালতের মধ্যস্থতায় ভাই তার বোনকে ৫৫০,০০০ ইউয়ান (প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন। এর মাধ্যমে দুই ভাই-বোনের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের অবসান হয়। এই ঘটনাটি চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।