আপ্যায়নই সার, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও হলোনা কোনো ফল, ফের মুখ পুড়লো ট্রাম্পের

ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান সূত্র খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি কোনো ইতিবাচক ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে আলোচনার কথা থাকলেও, মাত্র আড়াই ঘণ্টাতেই বৈঠক শেষ হয়। এর মধ্যে এক বিতর্কিত ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুতিনকে স্বাগত জানানোর জন্য ট্রাম্প সশরীরে আলাস্কার বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন। পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে কোনো ত্রুটি রাখেননি ট্রাম্প। বিমানঘাঁটিতে লাল গালিচা বিছানো হয়েছিল, যার ওপর দিয়ে হেঁটে আসেন দুই নেতা। কিন্তু সেই সময় লাল গালিচাটি টানটান রাখতে মার্কিন সৈন্যদের হাঁটু গেড়ে বসতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটির ছবি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
নতজানু সৈন্যদের নিয়ে বিতর্ক:
অনেকেই এই ঘটনাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করছেন। ইউক্রেনের স্টেট এজেন্সি ফর রেস্টোরেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টের প্রাক্তন প্রধান মুস্তাফা নায়েম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তার বিখ্যাত স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’-এর আদলে লিখেছেন, ‘মেক নিলিং গ্রেট এগেন’, অর্থাৎ ‘নতজানু হওয়াকে আবারও মহান করে তুলুন’।
আমেরিকার অভ্যন্তরেও এই ঘটনায় ক্ষোভ দেখা গেছে। এক ডেমোক্র্যাট নেতা টুইটারে লিখেছেন, “একজন যুদ্ধাপরাধীর জন্য লাল গালিচা! পুতিনকে আপ্যায়ন নয়, বরং গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল।” এই ধরনের সমালোচনা ট্রাম্পকে ব্যাপক চাপের মুখে ফেলেছে, বিশেষ করে যখন ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার দিকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তাকিয়ে আছে।
বৈঠকের ফলাফল:
জানা গেছে, বৈঠকে ইউক্রেন সংকট নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সূত্র অনুযায়ী, পুতিন নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তিনি কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবেন না। এই পরিস্থিতিতে, পুতিনের আপ্যায়নে এত আড়ম্বর সত্ত্বেও কোনো ফল না মেলায় অনেক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পকে ‘হাসির পাত্র’ বলে মনে করছেন।
এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান সূত্র বের না হওয়ায় এবং সামরিক শিষ্টাচার নিয়ে বিতর্কের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।