“দূর্গা পুজোর অনুমতি পেতে হলে…?”-কী কী জমা দিতে হবে কমিটিকে? জানিয়ে দিল পুলিশ

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা আসন্ন। মণ্ডপ নির্মাণ থেকে শুরু করে কেনাকাটা, সবকিছুর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এই সময়ে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট সম্প্রতি একাধিক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে।
পুজো কমিটিগুলির জন্য বাধ্যতামূলক নিয়মাবলী: বিধাননগর পুলিশ, বিমানবন্দর, বিধাননগর এবং নিউ টাউন এলাকার সমস্ত পুজো কমিটির জন্য এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ম হলো: ১. মণ্ডপ ও তার আশেপাশের এলাকায় পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগার থাকতে হবে। ২. মণ্ডপের অভ্যন্তরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো দর্শনার্থীকে অন্ধকারে সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। ৩. আগামী ২১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুজো কমিটিগুলোকে অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই আবেদনে কমিটির সম্পাদকের নাম, যোগাযোগ নম্বর, জমির মালিকের সম্মতিপত্র, মণ্ডপের স্কেচ ম্যাপ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: দর্শনার্থীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: ১. মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য দুটি আলাদা গেট রাখতে হবে। প্রস্থানের গেটটি প্রবেশের গেটের চেয়ে দ্বিগুণ প্রশস্ত হতে হবে। ২. পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৩. প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি পুলিশ ও দমকলের জন্য একটি বুথ তৈরি করতে হবে। ৪. এমন সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে, যা কমপক্ষে ১৫ দিনের ভিডিও রেকর্ড করতে পারে। এর মধ্যে একটি ক্যামেরা মণ্ডপের বাইরের রাস্তায় বসানো আবশ্যক।
অন্যান্য নিয়মাবলী: এছাড়াও, পুজো কমিটিগুলোকে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে: ১. জোরপূর্বক চাঁদা আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২. রাত ১০টার পর ডিজে বা লাউডস্পিকার বাজানো যাবে না। ৩. বিসর্জনের রুট, সময় এবং অংশগ্রহণকারীদের বিবরণ আগে থেকেই স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। একবার জমা দেওয়ার পর এই তথ্যে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। ৪. প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও দমকলের জরুরি ফোন নম্বরগুলো সহজে দেখা যায় এমন জায়গায় টাঙিয়ে রাখতে হবে।
এই নতুন নির্দেশিকাগুলো দুর্গাপূজাকে আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।