অসুস্থ সন্তানকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে হাজির মা হনুমান, কাতর দৃষ্টিতে করছেন প্রার্থনা! অতঃপর….

এক অভিনব দৃশ্য দেখা গেল মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের বহুতালি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। আহত সন্তানকে কোলে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এক মা হনুমান সটান হাসপাতালে এসে হাজির হয়। এই ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং তার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সম্ভবত হাসপাতালের বাইরে লাগানো “বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা” পোস্টার দেখে হনুমানের দলটি সেখানে এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার, স্বাধীনতা দিবসের সকালে। বহুতালি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে দুটি পূর্ণবয়স্ক এবং একটি অল্পবয়সী হনুমানকে বসে থাকতে দেখা যায়। দলের মা হনুমানের কোলে ছিল একটি আহত শিশু হনুমান, যার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। তার কাতর দৃষ্টি দেখে উপস্থিত সবার মনে হয়েছিল, যেন সে তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য করুণ আবেদন করছে।

এই দৃশ্য দেখে হাসপাতালের কর্মীদের মনে দয়ার উদ্রেক হয়। তারা আহত হনুমানটির চিকিৎসার চেষ্টা করেন। হাসপাতালের এক কর্মী জানান, তাদের হাসপাতালে মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পশু চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবুও তারা আহত বাচ্চা হনুমানটির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। কিন্তু মা হনুমান এবং তার দলের অন্য সদস্যরা নিজেদের বাচ্চাকে কারও কোলে দিতে রাজি হয়নি। বরং, কাছে গেলে তারা দাঁত খিঁচিয়ে তেড়ে আসছিল।

অবশেষে কর্মীরা দূর থেকে আহত বাচ্চাটির গায়ে মানুষের আঘাতের জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ছড়িয়ে দেন। ওষুধ দেওয়ার পর হনুমানের দলটি দ্রুত হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে গাছের ওপরে উঠে যায়। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এক কিশোরী তার মাকে প্রশ্ন করে বসে, “আচ্ছা মা, ওরা কি বাংলা পড়তে পারে? কী করে জানল এখানে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাওয়া যাবে?”

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রাণীরাও নিজেদের সন্তানের জন্য মানুষের মতোই ভালোবাসা ও যত্ন অনুভব করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে মা হনুমানের ভালোবাসা ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছেন।