প্রতিদিন ১ লক্ষ ডিম উৎপন্ন হয়, ৪০ কোটির পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধের মুখে! মাথায় হাত শতাধিক কর্মীর

ডিমের ঘাটতি মেটাতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জলপাইগুড়ির একটি বিশাল পোল্ট্রি ফার্ম এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফার্মের কারণে এলাকায় মাছি বেড়েছে এবং জন্ডিস ও লেপ্টোস্পাইরোসিস রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত এই ফার্মটি বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে, যা শ্রমিক ও ফার্ম কর্তৃপক্ষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
রাজ্যের ডিমের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের সাই শিবম পোল্ট্রি ফার্ম কর্তৃপক্ষ জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের চেকরমারি গ্রামে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর এই ফার্মটি তৈরি করে। এই ফার্মে ২০০-এরও বেশি স্থানীয় মানুষ কাজ করেন এবং গত এক বছর ধরে প্রতিদিন ১ লক্ষের বেশি ডিম উৎপাদন হয়ে তা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সম্প্রতি এলাকার ৮টি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, ফার্মের কারণে এলাকায় মাছি বেড়ে গেছে এবং গত কয়েকদিনে ১০০০-এর বেশি মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে, ১০০-এর বেশি মানুষ ইঁদুর থেকে ছড়ানো লেপ্টোস্পাইরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ফার্মটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
জেলাশাসক শামা পারভিন স্বাস্থ্য, প্রাণীসম্পদ ও অন্যান্য দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে ফার্ম কর্তৃপক্ষের কাছে ফার্ম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। যেহেতু সেই নথিগুলো বর্তমানে তাদের কাছে নেই, তাই কাগজপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত ফার্মটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে গ্রামবাসীরা খুশি হলেও, নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্ম কর্তৃপক্ষ হতাশ। তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় একজন গ্রামবাসী মহম্মদ রকবুল জানান, ফার্ম বন্ধ হলে তার পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবার সমস্যায় পড়বে। অন্যদিকে, রঞ্জিৎ সরকার ও লাল্টু দাসের মতো অন্য গ্রামবাসীরা মনে করেন, জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত সঠিক।
ফার্ম ম্যানেজার রঞ্জিৎ সরকার জানান, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন। নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, এই ফার্ম বন্ধ হলে রাজ্যের ডিম উৎপাদনে বড় ক্ষতি হবে। ফার্মের মালিক অশোক রেড্ডি জানান, এই প্রকল্পে ৪০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এটি বন্ধ হলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হবে।