Crypto: ৪০০০ কোটি ডলারের বাজার ধসে দায় স্বীকার ‘ক্রিপ্টো মোঘলের’, হবে বড় শাস্তি

চার হাজার কোটি ডলারের ক্রিপ্টো বাজার ধসের নেপথ্যের মূল হোতা, দক্ষিণ কোরীয় উদ্যোক্তা ডু কুওন, অবশেষে তার জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তিনি ওয়্যার ফ্রড (প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা) ও জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সমাপ্তি হলো ক্রিপ্টো দুনিয়ার অন্যতম কুখ্যাত কেলেঙ্কারির এক দীর্ঘ অধ্যায়।

৩৩ বছর বয়সী এই প্রযুক্তিবিদ সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘টেরাফর্ম ল্যাবস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘টেরা ইউএসডি’ (TerraUSD) ও ‘লুনা’ (Luna) নামক দুটি ক্রিপ্টোকারেন্সির স্রষ্টা। ২০২২ সালে তার তৈরি এই দুটি কয়েনের মূল্য আকস্মিকভাবে শূন্যে নেমে আসে, যা পুরো ক্রিপ্টো বাজারে এক বড়সড় ধস নামিয়েছিল এবং বহু বিনিয়োগকারীকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছিল।

প্রতারণার কৌশল

প্রসিকিউটরদের মতে, ডু কুওন তার ‘টেরা ইউএসডি’ কয়েনটিকে ‘স্টেবলকয়েন’ হিসেবে দাবি করতেন, যার মূল্য সর্বদা ১ ডলার থাকার কথা। কিন্তু যখন এই কয়েনটির মূল্য ১ ডলারের নিচে নেমে যায়, তখন তিনি বিনিয়োগকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, একটি স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার অ্যালগরিদম এর মূল্য আবার ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তিনি গোপনে একটি হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ট্রেডিং ফার্মকে কোটি কোটি ডলারের ‘টেরা ইউএসডি’ কিনে কৃত্রিমভাবে এর মূল্য বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

এই মিথ্যা দাবি এবং ভুল তথ্যের ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ‘টেরাফর্ম’-এর পণ্যগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে শুরু করেন। এর ফলস্বরূপ, ‘লুনা’ নামের আরেকটি টোকেনের মূল্য দ্রুতগতিতে বেড়ে যায়, যা একসময় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মোট মূল্যে পৌঁছেছিল। কুওন আদালতে তার ভুল স্বীকার করে বলেন, “আমি যা করেছি, তা ভুল ছিল।”

আইনি পরিণতি এবং সাজা

দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসা কুওন এখন তার অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। ম্যানহাটনের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বিচারক এনগেলমায়ার আগামী ১১ ডিসেম্বর তার সাজা ঘোষণা করবেন। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, যদি কুওন তার দোষ স্বীকার করেন, তাহলে তারা সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর মন্টিনিগ্রো থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কুওন যুক্তরাষ্ট্রে জেলে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যদি কুওন যুক্তরাষ্ট্রে তার সাজার অর্ধেক মেয়াদ ভোগ করেন, তাহলে প্রসিকিউটররা তাকে বিদেশে স্থানান্তরের জন্য করা আবেদনের বিরোধিতা করবেন না।

ডু কুওনের দোষ স্বীকারের ঘটনাটি ক্রিপ্টো দুনিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা। স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিডের মতো প্রভাবশালী ক্রিপ্টো উদ্যোক্তার ২৫ বছরের কারাদণ্ডের পর এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ক্রিপ্টো বাজার এখন আর কোনো আইনি নজরদারির বাইরে নয়। এটি ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।