জার্মানির দৃষ্টান্ত, ইউরোপে তরুণদের রাজনীতিবিমুখতা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইইউ পার্লামেন্টের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জার্মানির ব্যতিক্রমী মডেল:
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জার্মানি তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয় করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সেখানে স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার নানা সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে অল্প বয়স থেকেই তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

স্কুল থেকে পার্লামেন্ট:
জার্মানির সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৬৩০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৬ জনের বয়স ছিল ৩০ বছরের কম। ২৩ বছর বয়সী লুকে হস সবচেয়ে কম বয়সী পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জার্মানির সব রাজনৈতিক দলেরই তরুণদের জন্য আলাদা সংগঠন আছে, যার সদস্যরা ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। ক্ষমতাসীন সিডিইউ/সিএসইউ-এর ‘ইউঙ্গে ইউনিয়ন’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় তরুণ রাজনৈতিক সংগঠন, যার সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজার। এই সংগঠনগুলো থেকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস একসময় এসপিডি-এর তরুণ সংগঠন ‘ইউসোস’-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন।

রাজনীতির পাঠ ও চর্চা:
জার্মানিতে রাজনীতির পাঠ শুরু হয় স্কুল থেকেই। জুনিয়র হাই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যেমন দল গঠন, ভোট দান এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া, প্রতিটি শহরেই ‘ইয়ুথ পার্লামেন্ট’ রয়েছে, যেখানে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতেও শিক্ষার্থীদের কাউন্সিল থাকে, যার প্রতিনিধিরা জাতীয় পর্যায়ে একত্রিত হয়ে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা করে এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের মতামত তুলে ধরে। জার্মানিতে ১৬ বছর বয়স থেকেই পৌরসভা ও রাজ্যের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের যুব মন্ত্রণালয়ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য একটি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করেছে। জার্মানির এই মডেলটি প্রমাণ করে যে পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নিলে তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব।