বর্ধমানের গ্রামে বসেই হয়েছিল ভগৎ সিংয়ের বোমা হামলার পরিকল্পনা, সংরক্ষণের উদ্যোগ

দিল্লির সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিল বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের বোমা হামলার পেছনে যে বাংলার এক গ্রামের ভূমিকা ছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ওঁয়াড়ি গ্রামে বসে, যা ছিল বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের পৈতৃক নিবাস।
ইতিহাসবিদদের মতে, লাহোরে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর পর ভগৎ সিং, সুখদেব এবং রাজগুরু এর প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট জেমস স্কটকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে সহকারি সুপারিন্টেন্ডেন্ট জন পি স্যান্ডার্সকে হত্যা করেন। এই ঘটনার পর ভগৎ সিংকে আত্মগোপন করতে হয়। তখন তিনি বটুকেশ্বর দত্তের পরামর্শে ওঁয়াড়ি গ্রামে চলে আসেন।
ওঁয়াড়ি গ্রামের ঘোষবাড়িতে একটি পাতালঘরে প্রায় ১৫ দিন ধরে আত্মগোপন করে ছিলেন ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত। এখানেই তারা দিল্লির অ্যাসেম্বলিতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেন। এই ঐতিহাসিক বাড়িটি এখন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বটুকেশ্বর দত্ত সংরক্ষণ ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি, ইতিহাসবিদ ড. সর্বজিৎ যশ জানান, খণ্ডঘোষের বিডিওর সহায়তায় বাড়ির কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে এবং পাতালঘরটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
ঐতিহাসিক এই স্থানটি বর্ধমান স্টেশন থেকে কার্জন গেট হয়ে আরামবাগ রোড ধরে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গ্রামের মুখে ওঁয়াড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই ঘোষেদের বাড়িটি রয়েছে, যেখানে একটি পুরনো পাতালঘরে এই দুই বিপ্লবী লুকিয়ে ছিলেন। বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত হলেও, সেই পাতালঘরের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হিসেবে সুরক্ষিত থাকবে।