স্কুল ভবনের বারান্দা ভেঙে এক কিশোরীর মৃত্যু, ফের নিম্নমানের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন

রাজস্থানের উদয়পুর জেলার পাঠার পাড়ি গ্রামে একটি নির্মীয়মাণ স্কুল ভবনের বারান্দা ভেঙে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুর্ঘটনার সময় দুই কিশোরী স্কুলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই এই ঘটনা ঘটে। আহত কিশোরীকে তার পরিবার চিকিৎসার জন্য গুজরাটে নিয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় গ্রামবাসীরা নির্মাণকাজের নিম্নমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং স্কুল ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন সম্প্রতি রাজস্থান এবং দেশের অন্যান্য অংশে স্কুল ভবন ভেঙে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত মাসে ঝালাওয়াড়ের পিপলোড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে সাতজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
দেশজুড়ে স্কুল ভবন ধসের ঘটনা
রাজস্থানের এই ঘটনার পাশাপাশি ভোপালের একটি পিএম শ্রী স্কুলেও সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ক্লাসরুমে সিলিং ফ্যান ভেঙে শিক্ষার্থীদের উপর পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দিন ক্লাসে একজন শিক্ষিকা পড়ানোর সময় হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিং ফ্যানটি ভেঙে পড়ে।
একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের বলাগড়ের নিশ্চিতপুর জুনিয়ার বেসিক স্কুলেও জুলাই মাসের শুরুতে একটি ঘরের ছাদ ভেঙে পড়ে। এই স্কুলটি স্বাধীনতার আগে তৈরি হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় বারবার জরাজীর্ণ ভবনের সংস্কারের জন্য আবেদন জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন ওই ঘরে কোনো ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল না, কারণ বৃষ্টির কারণে জল পড়ছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশাসনের কর্তাদের সামনে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল ভবনের এমন দুর্ঘটনাগুলি নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং সরকারি স্কুলগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।