মাত্র ৫৬ মিনিটেই কেল্লাফতে! স্বাধীনতা দিবসে মোদীর রেকর্ড ভাঙা ভাষণ, ইন্দিরাকে অতিক্রম

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। তিনি টানা ১২ বারের মতো স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর টানা ১১ বারের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে। ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রতি বছরই এই ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছেন।
রেকর্ড বুকে মোদী
টানা সবচেয়ে বেশি বার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেওয়ার তালিকায় এখন নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, যিনি টানা ১৭ বার ভাষণ দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী তার প্রথম কার্যকালে টানা ১১ বার ভাষণ দিয়েছিলেন, যদিও তিনি মোট ১৬ বার ভাষণ দেন। মোদী এখন সেই মাইলফলক অতিক্রম করে দ্বিতীয় স্থানে নিজের নাম তুলেছেন।
ভাষণের মূল বিষয়বস্তু ও আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা
৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী তার চিরাচরিত গেরুয়া পাগড়ি পরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি গত এক দশকে ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার জন্য তার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুবক, বিজ্ঞানী এবং সরকারি বিভাগগুলোকে দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশে মনোনিবেশ করতে হবে। মোদী ‘অপারেশন সিঁদুর’কে এই আত্মনির্ভরতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র শক্তি প্রদর্শনের জন্য এর প্রশংসা করেন।
ভাষণের সময়কাল এবং নতুন রেকর্ড
এবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শুধু ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ডই ভাঙেননি, বরং নিজের একটি রেকর্ডও ভেঙেছেন। ২০২৪ সালে তার ভাষণ ছিল ৯৮ মিনিটের (১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট), যা ছিল তখন পর্যন্ত তার দীর্ঘতম ভাষণ। তার ২০২৩ সালের ভাষণ ছিল ৯০ মিনিটের। কিন্তু এই বছর তিনি মাত্র ৫৬ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে নিজের সবচেয়ে ছোট ভাষণের রেকর্ড গড়লেন।