হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার, জেনেনিন কেন এই সিদ্ধান্ত?

রাশিয়া সরকার জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জালিয়াতি ও সন্ত্রাসবাদের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শেয়ার না করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে এই দুই প্ল্যাটফর্মের ভয়েস কল পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে হামলার পর থেকে বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মস্কো এখন দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিদেশি প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরতা কমাতে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

রুশ যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকোমনাদজর-এর বরাত দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, অপরাধীদের রুখতে বিদেশি মেসেঞ্জারগুলোতে কল করার সুবিধা আংশিকভাবে সীমিত করা হয়েছে। তবে অন্যান্য কার্যক্রম এখনো সচল আছে। দেশটির ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদি এই প্ল্যাটফর্মগুলো রুশ আইন মেনে চলে, তবে তাদের কল পরিষেবা আবার চালু করা হবে।

মেটা ও টেলিগ্রামের প্রতিক্রিয়া
মেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যক্তিগত পর্যায়ে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন পরিষেবা দেয় এবং নিরাপদ যোগাযোগের অধিকার রক্ষায় তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তারা বলেছে, এই কারণেই রাশিয়া ১০ কোটিরও বেশি রুশ নাগরিকের জন্য প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করতে চাইছে। মেটা চেষ্টা চালিয়ে যাবে যাতে রাশিয়াসহ সারা বিশ্বের মানুষ নিরাপদ ও এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে।

টেলিগ্রাম জানিয়েছে, তারা নাশকতা ও সহিংসতার মতো খারাপ কাজ ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ক্ষতিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলে।

আইন মেনে চলার শর্ত
রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট থেকে টেলিগ্রামে ভয়েস কল প্রায় অচল এবং হোয়াটসঅ্যাপে কল করার সময় আওয়াজ বা এক ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

রাশিয়ার সংসদের তথ্য প্রযুক্তি কমিটির উপ-প্রধান আন্তন গোরেলকিন বলেছেন, এসব প্ল্যাটফর্মকে রাশিয়ায় নিবন্ধিত কোম্পানি স্থাপন করতে হবে এবং রুশ আইন মেনে রসকোমনাদজর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। যদি তারা এই শর্ত পূরণ করে, তবেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

২০২২ সালে মস্কো মেটাকে একটি উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে এতদিন হোয়াটসঅ্যাপের উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। গত মাসে গোরেলকিন বলেছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপকে ‘রাশিয়ার বাজার ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে’। দেশটির আরেকজন আইনপ্রণেতা বলেন, রাশিয়ার বাজারে হোয়াটসঅ্যাপের উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।