“তৃণমূল নামালো ১০টি, বিজেপি নামালো ৮টি”- ফ্রি -টোটো সার্ভিস নিয়ে শুরু হলো জোর টক্কর

দ্বারকেশ্বর নদের ওপর নির্মিত রামকৃষ্ণ সেতুর রেলিংয়ের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় বুধবার থেকে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। যাত্রীদের এই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষই এবার বিনামূল্যে টোটো পরিষেবা শুরু করে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

সেতুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসের যাত্রীদের কালীপুর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, যার ফলে তাঁদের পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে বাড়তি খরচেরও বোঝা চাপছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আরামবাগ পুরসভা এবং স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দু’পক্ষই বিনামূল্যে টোটো পরিষেবা চালু করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তৃণমূল পরিচালিত আরামবাগ পুরসভার উদ্যোগে কালীপুর থেকে আরামবাগ রুটে ১০টি টোটো চালু করা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান মমতা মুখোপাধ্যায় এই পরিষেবার সূচনা করেন। মমতা মুখোপাধ্যায় জানান, যতদিন না সেতুটি মেরামত হচ্ছে, ততদিন এই পরিষেবা চালু থাকবে। বিনামূল্যে এই পরিষেবা পেয়ে যাত্রীরা খুশি হলেও তাঁদের মূল দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি মেরামত করা হোক।

অন্যদিকে, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষও যাত্রীদের সুবিধার জন্য আটটি টোটো চালু করেছেন। তিনি বলেন, “রামকৃষ্ণ সেতুতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছিল। তাই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আটটি টোটো চালু করলাম, যা বিনামূল্যে পরিষেবা দেবে।”

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের টোটো পরিষেবাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন বিমান ঘোষ। তিনি বলেন, “আরামবাগ পুরসভার উচিত ছিল যেদিন থেকে ব্রিজ বন্ধ হয়েছে, সেদিন থেকেই এই পরিষেবা চালু করা। আমার উদ্যোগের খবর পেয়েই ওরা সকালে তড়িঘড়ি টোটো নামিয়েছে। এই নাটক মানুষ বোঝে।”

পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী। তিনি বিজেপি বিধায়ককে কটাক্ষ করে বলেন, “ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিদর্শন করেছেন। মানুষের দুর্ভোগের জন্য পুরসভা টোটোর ব্যবস্থা করেছে। নতুন সেতুর প্রস্তাবও পাঠানো আছে, কিন্তু কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না বলেই কাজ এগোচ্ছে না। টাকা না দিয়ে বিজেপি নাটক করছে।”

রামকৃষ্ণ সেতু মেরামতের বদলে বিনামূল্যে টোটো পরিষেবা চালু করে শাসক ও বিরোধী দল একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।