মালদায় ভেঙে গেলো বাঁধ, কোচবিহারে বন্যা পরিস্থিতি, টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ

গত কয়েকদিনের লাগাতার ভারী বর্ষণে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত জনজীবন বিপর্যস্ত। পাহাড়ে নতুন করে ধস নামা এবং সমতলে নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

পাহাড়ে ধস, তিস্তায় তলিয়ে গেল জাতীয় সড়ক:
টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ে ধস নামা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারও নতুন করে ধস নামায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে শুক্র ও শনিবারও একই কারণে জাতীয় সড়কটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২৯ মাইলে জাতীয় সড়কের একটি বড় অংশ তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। প্রশাসন মাঝে মাঝেই রাস্তা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন স্থানে বারবার ধস নামায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ২৮ মাইলে সেলফিদাঁড়ার কাছে ধস নেমে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে গেছে।

নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মালদা ও কোচবিহার:
মালদায় ফুলহর নদীর জলের তোড়ে এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে এই ঘটনা ঘটলেও, রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি ষড়যন্ত্র করে রাতের অন্ধকারে বাঁধটি কেটে দিয়েছে।

এদিকে, ভূতনির হীরানন্দপুর অঞ্চলের কালুটোনটোলার কাছে গঙ্গা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। নতুন রিং বাঁধের নিচ দিয়ে জল ঢুকতে শুরু করায় সেচ দপ্তর বালির বস্তা দিয়ে জল আটকানোর চেষ্টা করছে। এই বাঁধের উপরেই আশ্রয় নিয়েছে পাঁচটি গ্রামের আট শতাধিক পরিবার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গঙ্গা ও ফুলহরের মিলিত প্লাবনে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যেতে পারে, যা গত বছরের বন্যার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। গত বছরও বন্যার সময় ভূতনির কিছু মানুষ সুইচগেটের বাঁধ কেটে দেওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরানফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রায়ডাক-১ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীপাড় ভাঙতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে বেশ কিছু আবাদি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এই নদীভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাগাতার বৃষ্টি, ধস এবং নদীভাঙন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে তা যেন এক প্রকার অসহায়।