রাজগঞ্জের হ্যাচারি থেকে লেপ্টোস্পাইরোসিস ছড়ানোর আশঙ্কা, ৭৬ জন আক্রান্ত

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকে লেপ্টোস্পাইরোসিস সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, স্থানীয় একটি হ্যাচারি থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
লেপ্টোস্পাইরোসিস একটি জলবাহিত ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগ, যা সাধারণত কুকুর, বিড়াল, ইঁদুরের মতো প্রাণীর মল-মূত্র থেকে ছড়ায়। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজ্যের কোনো একটি ব্লকে এত বেশি সংখ্যক লেপ্টোস্পাইরোসিস আক্রান্তের ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে একটি হ্যাচারিকে, যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বেলেঘাটার ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুর এই রোগের জীবাণুর প্রধান উৎস। বর্ষাকালে মাঠেঘাটে জমা জলে ইঁদুরের মূত্র মিশে সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ইঁদুরের মূত্র থেকে গৃহপালিত পশুও আক্রান্ত হতে পারে। তবে এই বছর রাজগঞ্জ ব্লকে সংক্রমণ কেন এত বড় আকার ধারণ করল, তা নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন চিন্তিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য দফতর, প্রাণীসম্পদ দফতর এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর যৌথভাবে কাজ করছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে লেপ্টোস্পাইরা রোধে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর পরীক্ষা করে দেখছে যে, সংক্রমণবাহী জল কোনোভাবে পানীয় জলের উৎস, যেমন নলকূপগুলোতে প্রবেশ করেছে কি না। স্থানীয় প্রশাসন জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।