বাবা পরিযায়ী শ্রমিক, সংসার চালাতে বেছে নেন ডেলিভারির কাজ, রাস্তায় প্রাণ গেল সৌম্যের

অভাবের তাড়নায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের হিরন্ময়পুর গ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী যুবক সৌম্য মণ্ডল। পরিযায়ী শ্রমিক বাবা তাপস মণ্ডলের সামান্য রোজগারে সংসারের অভাব না মেটায়, ডেলিভারি বয়ের কাজ নিয়ে শহরে নিজের জীবিকা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার বিকেলে সল্টলেকে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার তরতাজা প্রাণ।
বেপরোয়া গতির বলি:
সল্টলেকের একে ব্লকের কাছে নতুন ব্রিজের ধারে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি বেপরোয়া গতির চারচাকা গাড়ি পরপর দুটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। সৌম্য একটি মোটরসাইকেলেই ছিলেন। ধাক্কার অভিঘাতে তিনি ব্রিজের রেলিংয়ের কাছে ছিটকে পড়েন এবং আটকে যান। এর পরই মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়ির যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও, রেলিংয়ে আটকে পড়া সৌম্য জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।
গ্রামে শোকের ছায়া:
এই মর্মান্তিক দুঃসংবাদ হিরন্ময়পুর গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়ে সৌম্যের পরিবার। তাদের বুকফাটা আর্তনাদ, যদি অর্থের প্রয়োজন না থাকত, তাহলে সৌম্যকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক:
দুর্ঘটনার পর সল্টলেকবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা উদ্ধার কাজে না নেমে শুধুমাত্র ঘটনার ভিডিও করছিলেন। উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
নাড়িয়ে দিল গোটা এলাকা:
বাসন্তীর এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকেই নয়, গোটা এলাকাকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত একটি তরতাজা প্রাণ, যে কিনা সামান্য রোজগারের আশায় শহরে এসেছিল, তার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এই ঘটনা আবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহায়তা এবং শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।