সুপ্রিম নির্দেশ থাকার পরও হাইকোর্ট শর্ত দেয় কীভাবে? রাজ্যকে মামলার নির্দেশ প্রধান বিচারপতি

ওবিসি সংরক্ষণ মামলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের আবেদন প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই প্রশ্ন তুলেছেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও কীভাবে কলকাতা হাইকোর্ট জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশের বিষয়ে শর্তারোপ করল? এর ফলে ওবিসি মামলার জটিলতা আরও বাড়ল।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ:
মঙ্গলবার মামলাটির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেন, “রাজ্য সরকার যদি মনে করে, তাহলে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে পারে। আমরা বিষয়টি দেখব।” এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার জানায় যে, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করবে।
উল্লেখ্য, ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। প্রধান বিচারপতির কাছে দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত শুনানির অনুমতি দিলেও, মূল মামলার শুনানি যথাসময়েই হবে বলে জানিয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, মূল মামলা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা নতুন করে তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মূল মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
জয়েন্ট এন্ট্রান্স এবং ভর্তিতে জটিলতা:
গত ৭ আগস্ট রাজ্য জয়েন্টের ফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর ফলে রাজ্যের কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করা যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট এর আগে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করলেও, তাতে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। কারণ, সংরক্ষণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দরের বেঞ্চে একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় হাইকোর্ট রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকে পুরনো সংরক্ষণ মেনেই জয়েন্টের মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরোধিতা করেই রাজ্য সরকার আবারও সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছে এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে, এবং এই মামলার রায়ের উপর রাজ্যের শিক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।