পথকুকুর বিতর্কে প্রশাসনকে তুলোধনা সুপ্রিমের, কঠোর বার্তা শীর্ষ আদালতের!

পথকুকুরদের সমস্যা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানুষের ওপর আক্রমণ, জলাতঙ্কে মৃত্যু এবং রাস্তায় নিরাপত্তাহীনতা— এই বিষয়গুলো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। আদালত জানিয়েছে, এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো স্থানীয় প্রশাসনের আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আদালতের নির্দেশ
সম্প্রতি বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি আর. মহাদেবনের একটি বেঞ্চ দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চল থেকে সমস্ত পথকুকুরদের ডগ শেল্টারে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়, যার ফলে মামলাটি তিন বিচারপতির বেঞ্চে স্থানান্তরিত করা হয়। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি গ্রহণ করে।

সওয়াল-জবাব এবং আইনি যুক্তি
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৭ লক্ষ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হন এবং জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে ৩০৫ জনের। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

অন্যদিকে, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রশ্ন তোলেন, যদি সব কুকুরকে শেল্টারে রাখা হয়, তাহলে সেই বিপুল সংখ্যক কুকুরদের থাকার জায়গা কোথায়? তিনি আরও বলেন, নির্বীজকরণের পর তাদের এলাকা পরিবর্তন করলে কুকুরদের মধ্যেকার লড়াই আরও বেড়ে যাবে। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দিল্লি, গোয়া ও রাজস্থানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলাতঙ্কে কোনো মৃত্যু হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, আইন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে, আর সে কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি। কেন্দ্র এবং অন্যান্য পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার পর আদালত এই মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে। আদালত আরও জানায়, পথকুকুরের নিরাপত্তা এবং মানুষের নিরাপত্তা, উভয়ই নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। যারা এই মামলার স্থগিতাদেশের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সবাইকে এই সমস্যার দায়ভার নিতে হবে।