মুখ্যমন্ত্রীকে গালি! শ্রীলেখা মিত্রকে সামাজিক বয়কটের দাবি, বাড়ির সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হল পোস্টার

গত ৯ই আগস্ট, অভয়া কাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে নবান্ন অভিযানের দিন বিজেপি এবং বামফ্রন্ট উভয়ই প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে। একদিকে যখন বিজেপি নবান্ন অভিযানের চেষ্টা চালায়, অন্যদিকে বামফ্রন্ট কালীঘাট চলো অভিযানের ডাক দেয়। সেই বামফ্রন্টের হাজরা মোড়ের প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেখানে তাঁর দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তাঁকে ‘ডাইনি’ বলে সম্বোধন করেন শ্রীলেখা। এর পাশাপাশি তিনি কিছু অসাংবিধানিক শব্দও ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এই বক্তৃতার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। বাম সমর্থক ও শ্রীলেখার ভক্তদের একাংশ তাঁর এই বক্তব্যকে ‘সাহসী’ আখ্যা দিলেও, সমালোচকদের আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। নেট দুনিয়ায় তাঁকে নিয়ে তীব্র ট্রোলিং শুরু হয়।
বিতর্কের কয়েকদিনের মধ্যেই অভিনেত্রীর বাড়ির সামনে একটি পোস্টার লাগানো হয়েছে, যেখানে লেখা হয়েছে, “শ্রীলেখা মিত্রকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হোক।” এই পোস্টারকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বাম সমর্থকরা এই ঘটনাকে ‘সত্য কথা বলার ফল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাঁদের মতে, সাহসী মন্তব্যের জন্যই শাসকের রোষানলে পড়েছেন শ্রীলেখা।
অন্যদিকে, শ্রীলেখার বক্তব্যকে সমর্থন করেননি এমন অনেকের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের অসাংবিধানিক ভাষা ব্যবহার করা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, শ্রীলেখা মিত্র রাজনীতির ভাষা জানেন না, অথবা কোথায় কী বলতে হয় তা তিনি ভুলে গেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করা উচিত নয় বলে মনে করছেন সিংহভাগ মানুষ। নেট দুনিয়ার একাংশ শ্রীলেখার অতীতের বিতর্কিত মন্তব্যের কথাও তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি টলিউডের কিছু ঘটনা সামনে এনেছিলেন, যার পর থেকে তাঁকে কার্যত ইন্ডাস্ট্রি থেকে বয়কট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে যাই হোক, একজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অশালীন ভাষা কখনোই কাম্য নয় বলে অনেকে মনে করছেন।