সিরাজদ্দৌলা ফলতার এই কেল্লায় আক্রমণে কেন দেশ ছেড়ে পালাত ইংরেজরা? এর কিছু রহস্য জেনেনিন

নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম কেন্দ্র ছিল ফলতার এই ঐতিহাসিক কেল্লা। ইতিহাসবিদদের মতে, নবাব যদি সেই সময় এই কেল্লায় আক্রমণ করতেন, তবে সম্ভবত ভারতবর্ষের ইতিহাসটাই অন্যরকম হতে পারত। ডাচদের তৈরি এই কেল্লাটি একসময় গভর্নর ড্রেক সাহেবের স্মৃতি বহন করত, যেখানে তিনি কলকাতা থেকে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই কেল্লা?
১৭৫৬ সালে নবাব আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তার নাতি সিরাজউদ্দৌলা বাংলার সিংহাসনে বসেন। এরপরই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই সময়ে নবাব ইংরেজ গভর্নর ড্রেক সাহেবকে ষড়যন্ত্রকারীদের আশ্রয় না দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ড্রেক সেই অনুরোধ উপেক্ষা করলে নবাব ক্ষুব্ধ হয়ে কলকাতা আক্রমণ করেন। ২০ জুন, ১৭৫৬ সালে নবাবের আক্রমণের মুখে ইংরেজরা কলকাতা থেকে পালিয়ে ফলতার এই কেল্লায় আশ্রয় নেয়।

এই কেল্লা থেকেই ব্রিটিশরা নবাবের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা জয়ের আনন্দে ফিরে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি যদি সেদিন ফলতাতেও আক্রমণ করতেন, তাহলে ইংরেজরা হয়তো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতো। ইতিহাসবিদ ও গবেষক জেহেন আলি পুরকাইত এই তথ্যটি তুলে ধরেছেন।

কেল্লার বর্তমান অবস্থা
সিরাজউদ্দৌলার সেই ভুলের ফলস্বরূপ পরে তাকে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত হতে হয়েছিল। তাই ফলতার এই কেল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। কেল্লার চারদিকে আজও পরিখা রয়েছে এবং মাঝে আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। প্রবেশদ্বারে দেখা যায় অসংখ্য গর্ত, যা প্রয়োজনে শত্রুদের ওপর গুলি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হত। সময়ের সাথে সাথে কেল্লার সব কিছুই এখন ইতিহাস।

আপনি যদি সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান, তবে অবশ্যই ডায়মন্ডহারবার থেকে দোস্তিপুর হয়ে ফলতার এই কেল্লায় ঘুরে আসতে পারেন। বর্তমানে ফলতা থানা থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই জায়গাটি আপনাকে এক ভিন্ন অনুভূতির স্বাদ দেবে।