টানা ৩ দিনের ছুটি, দিঘায় হোটেল বুকিংয়ে রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর

শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস। এরপরই শনি ও রবিবার, টানা তিন দিনের ছুটি। এই দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে দিঘা, মন্দারমণি, এবং তাজপুরে পর্যটকদের ঢল নামার সম্ভাবনা প্রবল। দিঘা প্রশাসনের ধারণা, এই সময়ে সমুদ্র সৈকতগুলো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে। এরই মধ্যে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পর্যটকরা এসি রুম বুক করেছেন। তাই যারা শেষ মুহূর্তে এসে রুম বুক করতে চাইছেন, তাদের সমস্যা হতে পারে। এমনকি, প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এই বিষয়ে হোটেল মালিক এবং প্রশাসন উভয়ই সতর্ক রয়েছে।

ডিএসপি (ডিএন্ডটি) আবুনুর হোসেন বলেন, “ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। কোনো অপরাধী যাতে ভিড়ের মধ্যে পরিচয় গোপন করে হোটেলে থাকতে না পারে, তার জন্য আমরা পর্যটকদের নথি যাচাই করছি।”

নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কঠোরতা
স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা এড়াতে দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরের সমুদ্র সৈকত ও জগন্নাথ মন্দিরে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্রসীমান্তে পুলিশ স্পিড বোট এবং জেট স্কি দিয়ে টহল দিচ্ছে। প্রতিটি প্রবেশ পথে নাকা চেকিংও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলগুলোর কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। গাইড বুকে দুইশ’টিরও বেশি হোটেলের ছবি এবং ভাড়ার তালিকা দেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকরা সহজেই সঠিক তথ্য পেতে পারেন। এতে করে হোটেল ভাড়া নিয়ে কোনো রকম কালোবাজারির সুযোগ থাকবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন খাতের আশা ও চ্যালেঞ্জ
দিঘা শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, “ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘায় আমাদের চারটি হোটেল মালিক সংগঠন রয়েছে। এছাড়াও আরও শত শত হোটেল আছে। তাদের ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে আমরা আশা করছি পুলিশ প্রশাসন এবিষয়ে নজর রাখবে। এই ছুটির দিনগুলোতে দিঘার পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”