ভারতে পথকুকুরদের খাওয়ানো কি অপরাধ? রাজধানীর সারমেয়দের কী করা হবে? জানুন বিস্তারে

বেওয়ারিশ কুকুরদের রাস্তা থেকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেশজুড়ে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি জলাতঙ্ক রোগে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা ৮ সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর)-এর সমস্ত পথকুকুর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এর ফলে শিশুরা কুকুরের কামড়ের ভয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে।

ভারতের পথকুকুর সমস্যা: পরিসংখ্যান ও ঝুঁকি
ভারতে পথকুকুরের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। ২০১২ সালে দিল্লিতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০,০০০, যা বর্তমানে ১০ লক্ষের কাছাকাছি বলে অনুমান করা হয়। বিশ্বজুড়ে জলাতঙ্কে মৃত্যুর প্রায় ৩৬% ভারতেই ঘটে এবং ৯৬% ক্ষেত্রে এর কারণ কুকুরের কামড়। এই বছরের প্রথম ছয় মাসে দিল্লিতে পশুর কামড়ের ৩৫,১৯৮টি ঘটনা এবং ৪৯টি জলাতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পথকুকুরের সমস্যা কতটা গুরুতর।

আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ
সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে কুকুরদের রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যার ফলে এনসিআর-এ বিপুল পরিমাণ খরচ হবে। জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ, কর্মী নিয়োগ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বহু মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। এই তহবিল দিল্লি সরকার এবং স্থানীয় পৌর সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করতে হবে। এছাড়াও প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এবং বেসরকারি অনুদানও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

পূর্ববর্তী আইন ও বর্তমান বিতর্ক
পূর্বে ১৯৬০ সালের প্রাণী নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন এবং ২০০১ সালের প্রাণী জন্ম নিয়ন্ত্রণ (কুকুর) বিধি অনুসারে পথকুকুরদের সুরক্ষা দেওয়া হতো এবং তাদের এলাকা থেকে সরানো যেত না। তবে সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ সেই আইনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীগুলো এই নির্দেশকে অবাস্তব ও অমানবিক আখ্যা দিয়েছে। তারা মনে করে, লাখ লাখ কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা অসম্ভব এবং এই পদক্ষেপ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। অন্যদিকে, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষ এই নির্দেশকে স্বাগত জানাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। তার এই মন্তব্য থেকে নতুন করে আশা জেগেছে যে, আদালত সম্ভবত একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে, যা জননিরাপত্তা এবং প্রাণী অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে।