ইংরেজবাজার থেকে কোচবিহার! ৩৭ দিনে ১০ তৃণমূল কর্মীর খুন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে একের পর এক শাসক দলের নেতা-কর্মীর উপর হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
সাম্প্রতিক সময়ে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের উপর ধারাবাহিক হামলা এবং খুনের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “থানাগুলি যেন দায়িত্ব নিয়ে এলাকায় নজরদারি চালায়।” তিনি আরও বলেন, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (IB) কেন আগে থেকে এই ধরনের ঘটনার খবর পাচ্ছে না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শীর্ষক বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “দায়িত্ব নিয়ে বসে থাকলেই হবে না, কাজ করতে হবে।” এই বৈঠকে বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
শাসক শিবিরে চাঞ্চল্য
গত মাত্র ৩৭ দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। ইংরেজবাজার, ভাঙড়, সুতি, লাভপুর, মল্লারপুর থেকে শুরু করে কোচবিহার— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বোমা, গুলি এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও উঠেছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি সোনামুখী, কোন্নগর, বাঁকুড়া এবং কোচবিহারের মতো জায়গায় শাসক দলের নেতাদের খুনের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক খুনের ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এই কড়া বার্তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উপর সরাসরি চাপ তৈরি করবে। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ থেকে এটা স্পষ্ট যে স্থানীয় থানাগুলির ব্যর্থতা নিয়ে তিনি আর নীরব থাকবেন না। ফলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে থানাগুলির কাজে আরও সক্রিয় নজরদারি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।