ইউনূস প্রশাসনের ‘চিন প্রীতি’র ফল, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়ল। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে স্থলপথে কিছু পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের চীন-ঘনিষ্ঠ নীতির প্রতি ভারতের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, এখন থেকে পাট এবং পাটজাতীয় দড়ি, বস্তা সহ বেশ কিছু পণ্য স্থলপথে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের নব সেবা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে এই পণ্যগুলো আমদানি করা যাবে।

গত বছর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা সামনে আসে। ভারত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউনূস প্রশাসনকে বার্তা দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাগুলো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতির কারণ। চলতি বছরের মার্চ মাসে মহম্মদ ইউনূস চীন সফরে গিয়ে ভারতের সমালোচনা করেছিলেন। এরপর থেকেই ভারত একের পর এক বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত মে মাসে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার স্থলপথে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত আরও একবার তাদের অসন্তোষের কথা স্পষ্ট করে দিল।