রানি রাসমণির মেয়ের তৈরি অন্নপূর্ণা মন্দির, যা পরিচিত কলকাতার ‘মিনি দক্ষিণেশ্বর’ হিসেবে

পশ্চিমবঙ্গের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক এবং আধ্যাত্মিক স্থান, যা প্রায়শই আলোচনার বাইরে থেকে যায়। তেমনই একটি স্থান হলো ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দির, যা অনেকে ‘মিনি দক্ষিণেশ্বর’ নামেও চেনেন। এই মন্দিরটি দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী মন্দিরের আদলেই তৈরি।
১৮৭৫ সালের ১২ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তির দিনে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন রানি রাসমণির ছোট মেয়ে জগদম্বা দেবী। এই মন্দির তৈরির নেপথ্যে রয়েছে একটি স্বপ্নাদেশের গল্প, অনেকটা তার মায়ের মতোই। শোনা যায়, জগদম্বা দেবী যখন নৌকাযোগে কাশী যাচ্ছিলেন, তখন চানক গ্রামের কাছে তিনি মা অন্নপূর্ণার স্বপ্নাদেশ পান। মা তাকে সেই স্থানে একটি মন্দির তৈরি করার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী, জগদম্বা দেবী এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। ব্যারাকপুরের পুরোনো নাম চানক ছিল, তাই এই মন্দিরটি চানকের অন্নপূর্ণা মন্দির হিসেবেও পরিচিত।
অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গনে ৬টি শিব মন্দির রয়েছে। প্রচলিত আছে যে, জগদম্বা দেবী তার মায়ের মতো ১২টি শিব মন্দিরই তৈরি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে মায়ের কীর্তির সঙ্গে পাল্লা না দিতে। এরপরই তিনি ৬টি শিব মন্দির নির্মাণ করেন। গর্ভগৃহে শ্বেতপাথরের বেদীর উপর রুপোর সিংহাসনে অষ্টধাতুর দেবী অন্নপূর্ণা বিরাজমান। দেবীর ডান হাতে অন্নদান করার হাতা এবং বাঁ হাতে অন্নপাত্র। পাশে রুপোর মহাদেব ত্রিশূল ও ভিক্ষাপাত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।
মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো অন্নকূট উৎসব, যেখানে প্রায় একশো কেজি চালের অন্নকূট হয়। সারা বছর এখানে নিত্যপুজো ছাড়াও অন্যান্য উৎসব যেমন দুর্গাপূজা, কালীপূজা এবং জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে মোট চারবার এসেছিলেন বলেও শোনা যায়।