মাথায় পরপর গুলি, বাঁকুড়ায় TMC নেতা খুন, ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?

ফের রাজনীতির ময়দানে রক্ত ঝরল বাঁকুড়ায়। সোমবার গভীর রাতে সোনামুখীর পিয়ারবেরা অঞ্চলের চকাই গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি শেখ সায়নকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার রাতে সায়ন প্রতিদিনের মতো বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজার থেকে কিছুটা দূরে একটি ফাঁকা জায়গায় বাইকে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তার মাথায় তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেখ সায়ন এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পিয়ারবেরা অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের হতে পারে। কয়েক মাস আগে এলাকায় একটি গুলি চালানোর ঘটনায় সায়ন গ্রেফতার হয়েছিলেন, যা তার সঙ্গে পুরনো শত্রুতার ইঙ্গিত দেয়। পুলিশ ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে দু’জন তৃণমূল কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সায়নের পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক কারণ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি বাঁকুড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। শাসক দলের একজন সক্রিয় নেতাকে এইভাবে গুলি করে খুন করায় এলাকার সাধারণ মানুষ এবং দলের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ কী উঠে আসে এবং কে বা কারা এর পিছনে জড়িত।