‘কামড়ে-টামড়ে দেয়, সমস্যা হাজার!’ দিল্লি-রাজস্থানের রাস্তা থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ সুপ্রিমের

পথকুকুরদের নিয়ে দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য দিল্লি ও রাজস্থানে যুগান্তকারী নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত এবং হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের সমস্ত পথকুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই ধরনের রায় দিয়েছে রাজস্থান হাইকোর্টও, যা সমাজের চিরায়ত ছবি বদলে দিতে পারে। আদালতের এই রায়ের ফলে পথে আর পথকুকুর দেখা যাবে না।

দিল্লির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
দিল্লি-এনসিআরে কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি জনস্বার্থের বিষয়, তাই কোনো আবেগের স্থান নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাস্তা থেকে সব কুকুরকে তুলে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে। এই কাজে বাধা দিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং গুরুগ্রামের পৌর প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে পথকুকুরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশু অধিকার কর্মীদের আপত্তি খারিজ: পশু অধিকার কর্মীদের আপত্তির কারণে আটকে থাকা প্রকল্প প্রসঙ্গে আদালত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বলেছে, “এসব পশু অধিকার কর্মীরা কি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে পারবেন?”

রাজস্থান হাইকোর্টের রায়
রাজস্থান হাইকোর্টও একটি স্বতঃপ্রণোদিত আবেদনে একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত অবিলম্বে রাস্তা থেকে পথকুকুর এবং অন্যান্য প্রাণীদের অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে।

পৌর সংস্থার ক্ষমতা: আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পৌর সংস্থাগুলি এই অপসারণ কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।

নির্দিষ্ট স্থানে খাওয়ানো: আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, কেউ যদি পথকুকুর বা গবাদি পশুকে খাওয়াতে চান, তাহলে তাদের নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র বা স্থানে যেতে হবে।

এই রায়গুলি পথকুকুরদের সুরক্ষার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।