বিএলএ-কে সন্ত্রাসবাদী তকমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, মুনিরের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের আমেরিকা সফরের পরই পাকিস্তান এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফরের সময় এই ঘোষণা তার জন্য এক বড় কূটনৈতিক জয়।
বিএলএ এবং তাদের সহযোগী ‘মাজিদ ব্রিগেড’ পাকিস্তানে, বিশেষত সেনাবাহিনীর ওপর, একাধিক হামলার জন্য দায়ী ছিল। মুনির যখন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে ছিলেন, ঠিক তখনই এই ঘোষণাটি আসে, যা এর সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগাম হামলার দায় স্বীকার করা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-কেও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যা লস্কর-ই-তইবার ছদ্মনাম।
বিএলএ-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার ফলে এখন থেকে তাদের আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বহু বছর ধরে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, ভারত এই সংগঠনটিকে সহায়তা দিচ্ছে, যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ তারা পেশ করতে পারেনি।
মুনিরের মার্কিন সফর এবং ‘পারমাণবিক হুমকি’:
মুনিরের এই সফরের সময় পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্কের উষ্ণতা বেড়েছে। মার্কিন মাটিতে দাঁড়িয়ে মুনির ভারতকে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি মনে করি আমরা ডুবে যাচ্ছি, তবে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবব।” ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে “বন্ধুত্বপূর্ণ তৃতীয় দেশের মাটি থেকে দুঃখজনক মন্তব্য” বলে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের এই উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কও কম নয়। মুনির এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বৈঠকের পর থেকে পাকিস্তান একাধিক কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে। মুনির এমনকি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাবও দেন।
পেন্টাগনের সতর্কতা:
তবে পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন সতর্ক করে বলেন, “আসিম মুনির আসলে স্যুট পরা ওসামা বিন লাদেন। পাকিস্তানকে যতই ছাড় দেওয়া হোক না কেন, তার বা পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী এলিটদের আদর্শ বদলাবে না।” এই নতুন ‘বন্ধুত্ব’ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তুলবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।