‘স্যুট পরিহিত ওসামা বিন লাদেন’, মুনীরকে জঙ্গি বলে আক্রমণ প্রাক্তন পেন্টাগন আধিকারিকের

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘স্যুট পরিহিত ওসামা বিন লাদেন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র আক্রমণ করেছেন আমেরিকার পেন্টাগনের প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মাইকেল রুবিন। সম্প্রতি এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ যখন বিশ্বের অর্ধেককে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেয়, তখন এটি স্পষ্ট যে তারা একটি বৈধ রাষ্ট্র হিসেবে থাকার অধিকার হারিয়েছে।

রুবিন বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী, তিনি ঘোড়া কেনাবেচায় অভ্যস্ত… তিনি বোঝেন না যে একটি খারাপ শান্তি চুক্তি আসলে যুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে… তাঁর নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে।” এর পরেই তিনি আসিম মুনিরের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “আসিম মুনির হলেন স্যুট পরিহিত ওসামা বিন লাদেন। পাকিস্তানকে যেকোনও ছাড় দেওয়া হলেও তাদের মতাদর্শগত পরিবর্তন ঘটবে না।”

মাইকেল রুবিন জোর দিয়ে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য নীতি বিবেচনা করার সময় এসেছে… এমন সময় এসেছে যখন ভবিষ্যতের প্রশাসনের উচিত পাকিস্তানে প্রবেশ করে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষিত করা (দখল করা)। কারণ এর বিকল্প সহ্য করা (পাকিস্তানের পরমাণু হামলা) খুব কঠিন।”

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ভারতকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। দ্য প্রিন্টের খবর অনুযায়ী, মুনির বলেছিলেন, “এবার আমরা ভারতের পূর্ব দিক থেকে শুরু করব, যেখানে তাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সম্পদ রয়েছে। তারপর আমরা পশ্চিমের দিকে যাব।” তিনি আরও বলেছিলেন, “আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি আমাদের মনে হয় যে আমরা কোনো যুদ্ধে হেরে যাচ্ছিলাম, তাহলে আমরা আমাদের সঙ্গে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবে যাব।”

মুনির ভারতকে ‘চকচকে মার্সিডিজ’ এবং পাকিস্তানকে ‘পাথর বোঝাই করা ডাম্পার ট্রাক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “দুটোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে কোনটার বেশি ক্ষতি হবে?” তিনি সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ নির্মাণ করলে ১০টি মিসাইল দিয়ে তা উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

ফ্লোরিডার একটি অনুষ্ঠানে মুনির ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকেও হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি বলেছিলেন, “আমি একটি টুইট করিয়েছিলাম, সুরা ফিল এবং মুকেশ আম্বানির একটি ছবি দিয়ে, যাতে তারা বুঝতে পারে, পরবর্তী সময়ে আমরা কী করতে পারি।” এই মন্তব্যগুলো পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও সমালোচিত করেছে।