নয়ডার ভুয়ো থানা কাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী-সহ ৬ জন ১৪ দিনের জেল হেফাজতে

নয়ডায় ভুয়ো থানা খুলে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী-সহ ছয়জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে নয়ডা আদালত। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় এমন একটি জালিয়াতি চক্র একা বিভাস অধিকারীর পক্ষে চালানো সম্ভব কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সলিল ভট্টাচার্য এবিপি আনন্দকে জানান, “এর পিছনেও একটা চেন আছে। শুধু ওই বিভাস অধিকারীর পক্ষে এটা সম্ভব নয়। সুতরাং কলকাতা পুলিশকে সুয়োমোটো কেস আবার স্টার্ট করতে হবে। ওকে পুলিশ কাস্টডিতে নিতে হবে। অপরাধের পুনর্নিমাণ করাতে হবে।”
নয়ডা পুলিশ কমিশনারের চালানো অভিযানে বিভাস অধিকারী এবং তার পাঁচ সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, শুধুমাত্র নয়ডায় নয়, কলকাতায়ও বিভাস অধিকারীর জালিয়াতির জাল ছড়িয়ে ছিল। বেলেঘাটায় তার একটি ভুয়ো থানার হদিশ পাওয়া গেছে, যা ফুলবাগান থানা থেকে মাত্র ৭৫০ মিটার এবং বেলেঘাটা থানা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, নীল বাতি লাগানো গাড়ি এবং বেঙ্গল পুলিশের গাড়ি নিয়ে এলাকায় তার যাতায়াত ছিল।
এই প্রথম নয়, এর আগেও বিভাস অধিকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তার নাম জড়িয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই-এর স্ক্যানারে থাকা গোপাল দলপতি ও ধৃত কুন্তল ঘোষের মুখে তার নাম উঠে এসেছিল। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে তার একটি ফ্ল্যাটও সিল করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
এক সময় যিনি সমাজ থেকে ‘শ্রদ্ধার চাষ’ হারিয়ে যাচ্ছে বলে জ্ঞান দিতেন, সেই বিভাস অধিকারীর বিরুদ্ধে এবার জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা সামনে আসে কিনা।