ট্রাম্পের নির্দেশে ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়তে বলা হলো গৃহহীনদের, বিতর্ক তুঙ্গে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গৃহহীনদের উচ্ছেদ এবং অপরাধীদের জেলে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ওয়াশিংটন ডিসির সমস্ত গৃহহীনদের অবিলম্বে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই ঘোষণা করেন। তিনি লিখেছেন, “গৃহহীনদের অবিলম্বে সরে যেতে হবে। আমরা তোমাদের থাকার জায়গা দেব, কিন্তু রাজধানী থেকে অনেক দূরে।” অপরাধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের সরে যেতে হবে না। আমরা তোমাদের যেখানেই থাকুক না কেন কারাগারে পাঠাবো।”
এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমানে শহরে অপরাধের হার বাড়েনি। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই কড়া ঘোষণাটি সামনে এসেছে। যদিও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে প্রশাসন ওয়াশিংটনে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসেও ট্রাম্প একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের একার হতে পারে, যেখানে অন্যান্য রাজ্যে গভর্নরের মতামত প্রয়োজন হয়।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা ওয়াশিংটন ডিসিকে ‘ফেডারেলাইজ’ করার চেষ্টার নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি সম্ভব হলেও একটি জটিল প্রস্তাব। কমিউনিটি পার্টনারশিপের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৩,৭৮২ জন অবিবাহিত ব্যক্তি প্রতি রাতে গৃহহীন থাকেন। একটি বার্ষিক গণনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যাটি ছিল ৫,১৩৮ জন। যদিও ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
তবে গৃহায়ন সমর্থকরা দাবি করছেন যে, গৃহহীনতার প্রকৃত সংখ্যা রিপোর্ট করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। তাদের মতে, প্রস্তাবিত ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে গৃহহীনদের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই, যা শহরের যে কোনো উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি ৩রা আগস্ট ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (DOGE) একজন কর্মী আক্রমণের শিকার হওয়ার পর আসে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, ট্রাম্পের মিত্র এবং DOGE-এর প্রধান ইলন মাস্কও ডিসিকে ফেডারেলাইজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।