বাংলায় কথা বলায় ফের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক পরিযায়ী শ্রমিক, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভিন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা ও আটকের ঘটনা আবারও শিরোনামে এসেছে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এবং উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে যথাক্রমে মুম্বই ও তামিলনাড়ু পুলিশ আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

মুম্বইয়ে কর্মরত বজবজের সোমা বিবিকে গত ৭ই অগাস্ট মোবাইলে বাংলায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে নভি মুম্বই পুলিশ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাঁকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা উত্তর রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বজবজ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রশাসনিক তৎপরতায় প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে সোমাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সোমার পরিবার এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্কিত।

অন্যদিকে, আরও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুতে। হাসনাবাদের টাকি পুরসভা এলাকার বাসিন্দা রাজীব শেখকে প্রায় ২১ দিন ধরে আটকে রেখেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। রাজীবের স্ত্রী মোনোরা বিবি জানিয়েছেন, গত ২২শে জুলাই তামিলনাড়ুর পেরেমবালা থানার পুলিশ তাঁর স্বামীকে ইটভাটা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে রাখে। রাজীবের সমস্ত বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ছাড়া হচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে স্বামীকে ফিরে পেতে মোনোরা বিবি এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন।

রাজীবের স্ত্রী মোনোরা বিবি বলেন, “আমার স্বামী পাঁচ বছর ধরে তামিলনাড়ুতে কাজ করছেন। এখানকার পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। ২১ দিন ধরে তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, তার কিছুই জানতে পারছি না। আমরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।”

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব এবং তামিলনাড়ু পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

রাজ্যজুড়ে এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছেন। তিনি অতীতেও ভিন রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের প্রতি হেনস্থার ঘটনা এখনও অব্যাহত।