ফতেপুরে সমাধিক্ষেত্রে ভাঙচুর, হিন্দু সংগঠনের বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ

ফতেপুরের আবু নগরের একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রে ভাঙচুরের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বজরং দল-সহ কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা সোমবার সকালে হাতে লাঠি ও গেরুয়া পতাকা নিয়ে এই হামলা চালায়। তাদের দাবি, সমাধিটি একটি হিন্দু মন্দিরের ওপর তৈরি হয়েছে এবং তারা সেখানে উপাসনা করবে। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই সমাধিক্ষেত্র ঘিরে একটি বিতর্ক চলছিল। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, এখানে আগে একটি মন্দির ছিল, যার উপর এই সমাধি তৈরি করা হয়েছে। এই বিতর্কের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজ সকালে একদল যুবক জড়ো হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে সমাধিক্ষেত্রে হামলা চালায় এবং তার বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেয়।
বজরং দলের নেতা ধর্মেন্দ্র সিং এই ঘটনার পর বলেন, “এটা আমাদের ঠাকুরজির মন্দির। এখানে আমরা আমাদের ধর্মীয় উপাচার পালন করব। ধর্ম আমাদের প্রার্থনা করার অধিকার দিয়েছে এবং সেই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, এমনকি প্রশাসনও আমাদের রুখতে পারবে না।”
যদিও এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলাশাসক রবীন্দ্র সিং জানান, এখন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। সকালে যে জনসমাগম হয়েছিল, তা এখন আর নেই। তিনি আরও বলেন, গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার অরূপকুমার সিং জানিয়েছেন, দশটি থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ভারতে হিন্দু মন্দির ভেঙে মসজিদ বা সমাধিক্ষেত্র তৈরির দাবি নতুন নয়। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্কের পর কাশী-মথুরা-সহ একাধিক জায়গায় একই ধরনের বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। এই ধরনের প্রবণতা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ফতেপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল।