রুশ তেলের বিকল্পে বাড়বে খরচ, কমবে শোধিত জ্বালানি, জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন ভারতের ২৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিতে বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত অন্যান্য দেশ থেকে অশোধিত তেল আমদানি করে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।

সারা বিশ্বে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহকারী সংস্থা কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলিতে প্রায় ৩৮ শতাংশ রুশ তেল পরিশোধন করা হয়। এর প্রধান কারণ হলো, রাশিয়ার ‘উরাল গ্রেড’ অশোধিত তেল থেকে তুলনামূলকভাবে কম বর্জ্য এবং অনেক বেশি পরিমাণে ডিজেল, পেট্রল এবং বিমানের জ্বালানি পাওয়া যায়। ভারতের অত্যাধুনিক পরিশোধন পরিকাঠামোর সঙ্গে এই তেল অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আমদানি খরচ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব:

মার্কিন শুল্কের চাপ থেকে বাঁচতে যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়, তবে বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে তেল কিনতে হবে। কেপলারের রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানি করলে প্রতি ব্যারেল পিছু প্রায় ৫ ডলার বেশি খরচ হবে। এর ফলে ভারতকে বছরে ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ে, তবে এই খরচ আরও বাড়তে পারে এবং ৭ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর জেরে দেশের খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, অথবা সরকারকে দাম বেঁধে দিতে হতে পারে, যা আর্থিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে।

ভারত সরকারের কঠোর বার্তা:

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের জবাবে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, দেশের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর যখন পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন ভারত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আমদানি শুরু করে। এর ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে ভারতের মোট তেল আমদানির মাত্র ১.৭ শতাংশ ছিল রুশ তেল, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৫.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ।

ভবিষ্যতের পথ:

মার্কিন চাপের কারণে ভারত এখন অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে। আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে অশোধিত তেল আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এতে খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, ভারত এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা কীভাবে করে।