বাংলাদেশি তরুণীদের নিয়ে দেহ ব্যবসা, হায়দ্রাবাদে করা হত পাচার, ফাঁস বড় পাচার চক্র

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে মহিলাদের অবৈধভাবে ভারতে এনে দেহব্যবসার কাজে নামানোর অভিযোগে একটি বড় মানব পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও তিন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৮ই অগাস্ট এক ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন হাজেরা বেগম, শাহনাজ ফাতিমা এবং মহম্মদ সমীর। বান্দলাগুদা থানায় দায়ের করা অভিযোগে ওই মহিলা পুলিশকে জানান যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর প্রতিবেশী ‘রূপা’ তাঁকে ভারতে ভালো চাকরির প্রস্তাব দেন। এরপর গভীর রাতে নৌকায় করে তাঁকে সীমান্ত পার করানো হয়। প্রথমে কলকাতায় আনা হয় এবং সেখান থেকে ট্রেনে করে তাঁকে হায়দরাবাদে নিয়ে আসা হয়।

হায়দরাবাদে আসার পর তাঁকে শাহনাজ ফাতিমার হাতে তুলে দেওয়া হয়, যিনি পরে তাঁকে হাজেরা বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, তাঁকে চাকরির নামে দেহব্যবসার জন্য আনা হয়েছে। যেহেতু তাঁর কাছে ভারতে থাকার কোনো বৈধ নথি ছিল না, তাই অবৈধভাবে থাকার ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোর করে এই কাজে বাধ্য করা হয়। এরপর থেকে তাঁকে বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে ‘কাজে’ পাঠানো হতে থাকে।

দীর্ঘদিন এই নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর একদিন সাহস করে এই মহিলা পালিয়ে যান। ৮ই অগাস্ট হোটেলে যাওয়ার পথে তিনি সুযোগ বুঝে মহম্মদ সমীরের গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি থানায় পৌঁছে যান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের সময় পুলিশ মেহদিপট্টনমে শাহনাজ ফাতিমার একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দেয় এবং সেখান থেকে আরও তিন তরুণীকে উদ্ধার করে। জানা গেছে, এই বাড়িতেই অভিযুক্তরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা তরুণীদের আটকে রাখত।

পুলিশের দাবি, এই পাচার চক্রটি শুধুমাত্র হায়দরাবাদেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল হোতারা পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশেও সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র মেয়েদের ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে দেহব্যবসার কাজে বাধ্য করা। পুলিশ বর্তমানে পলাতক দুই অভিযুক্ত, রূপা এবং সরোয়ারকে ধরার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে এবং এই চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের আপাতত একটি রেসকিউ হোমে রাখা হয়েছে।