‘রতন টাটা থাকলে এমন হত না…’, AIR ইন্ডিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে কেন একথা বললেন মার্কিন আইনজীবী?

টাটা গ্রুপের অধীনস্থ এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের বিলম্ব নিয়ে এবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি। গত ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ১৭১ নম্বর বিমানটি ভেঙে পড়ার পর নিহত ২৬০ জন যাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগের পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। এই পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারের হয়ে মামলা লড়ছেন মার্কিন আইনজীবী মাইক অ্যান্ড্রুজ। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, “রতন টাটা জীবিত থাকলে ক্ষতিপূরণ দিতে এত দেরি হতো না।”
ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত
গত ১২ জুন দুর্ঘটনার পর টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রায় দেড় মাস পর, ২৬ জুলাই এয়ার ইন্ডিয়া ১৪৭টি পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা দেয়। কিন্তু বাকি নিহতদের ৬৫টি পরিবার এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। এই ৬৫টি পরিবারের হয়েই মামলা লড়ছেন মার্কিন আইনজীবী মাইক অ্যান্ড্রুজ।
অ্যান্ড্রুজের বক্তব্য: রতন টাটার অভাব বোধ
মাইক অ্যান্ড্রুজ এয়ার ইন্ডিয়ার এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমেরিকার সবাই জানেন রতন টাটা কে ছিলেন। তার সহমর্মিতা এবং সহানুভূতির কথা সুবিদিত। তিনি বেঁচে থাকলে শোকাহত পরিবারগুলোকে এই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হতো না।”
তিনি একটি পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমরা একটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি, যেখানে একজন শয্যাশায়ী বৃদ্ধা তার ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এখন তারা কী করবেন?”
প্রসঙ্গত, টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য ‘দ্য এআই-১৭১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের পরিকাঠামো পুনর্গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাইক অ্যান্ড্রুজের এই মন্তব্য এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।