“চতুর্থবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা ব্যানার্জি”, ২৬-এর ভোটের আগেই বড় ভবিষ্যদ্বাণী কুনালের!

সম্প্রতি নবান্ন অভিযানকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ। রবিবার চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, হাইকোর্ট শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বললেও সাঁতরাগাছিতে ইট হাতে নিয়ে আন্দোলনকারীদের তালা ভাঙতে দেখা গেছে। এই ঘটনার জন্য তিনি বটোকৃষ্ণ দাস নামে এক ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন।

কুণাল ঘোষ সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর জনমুখী প্রকল্পগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু সরকারি কর্মচারী ‘অন্তরঘাতমূলক আচরণ’ করছেন এবং সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন, যাতে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট কমে যায়। তিনি কর্মীদের এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নেতৃত্বকে জানানোর আহ্বান জানান।

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কুণাল ঘোষ ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম শূন্য, কংগ্রেসও শূন্যই থাকবে। বিজেপি ৩০ পেরোবে না। তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”

বিমান বন্দরে বাংলাদেশি আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, “জল, স্থল, অন্তরীক্ষ—তিনটেই কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত। এরা ঢুকলো কোথা থেকে? ত্রিপুরা থেকে? এটা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব।” তিনি বিএসএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।

নবান্ন অভিযান প্রসঙ্গে তিনি পুলিশি পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “পুলিশ অত্যন্ত সংযত ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশ আক্রান্ত হলেও কখনোও পাল্টা আঘাত করেনি।” তিনি এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, “বিজেপি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে পরিকল্পিতভাবে মা-বাবাকে সামনে নিয়ে গেছে।” শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী সব সীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।” তিনি এর জন্য বিচারপতি মান্থার দেওয়া রক্ষাকবচকে দায়ী করেন।

শিয়ালদহ স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে বন্দরের নামকরণ হয়েছে। তবে শিয়ালদহ স্টেশন যদি নামকরণ করতেই হয়, তবে তা স্বামী বিবেকানন্দের নামে করা হোক, কারণ শিকাগো ধর্মসভার পর তিনি এই স্টেশনে নেমেছিলেন। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দুটি ভোটার কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল চায় নিখুঁত ভোটার তালিকা। কোনো বৈধ ভোটারকে যেন হেনস্তা করা না হয়।